বাংলা গল্প, ছড়া ও কবিতার আসর

শনিবার, ১৮ মার্চ, ২০১৭

লিরার সাথে প্রথম দেখা

ঘটনা চক্রে মোবাইল ফোনে মেয়েটির সাথে পরিচয়। নাম লিরা। বয়স ৩১। প্রায় ৪ বছর হল তার ডিভোর্স হয়েছে। অতীত স্বামী ছিল নাটক সিনেমার ডাইরেক্টর। বাড়িতে বউ রেখে মেয়দের সাথে দুষ্টুমি করে বেড়াতো। তাই তাকে ডিভোর্স দেয়া হয়েছে। তা না হলে তাকে আজ একা থাকতে হত না। ভালবাসা দিয়ে আদর করার কেউ পাশে থাকত।
লিরা দেখতে সুন্দরী। ফর্সা বর্ণের। অনেকে তাকে কিউট মেয়েও বলে। আরও একটা কি যেন বলে! বলতে গিয়ে লজ্জা পাচ্ছিল, তাই জানা হয়নি। ওর শারীরিক গঠন স্লিম। রোগা ধরনের স্লিম না, জিরো ফিগারের স্লিম। পেটে মেদ বলতে কিছুই নেই। নিজের বুটিক ব্যাবসা আছে। পারিবারিক সূত্রে ভালোই অর্থ সম্পদের মালিক। শপিং করতে পছন্দ করে। গত ঈদে ৬০ হাজার টাকার ড্রেস কিনেছিল। এ নিয়ে পরিবারের কাছ থেকে কথাও শুনতে হয়েছে তাকে। এসবের কিছুই আমি জানতে চাইনি। আগ বাড়িয়ে লিরা নিজ থেকে বলেছে। তা না হলে তার সম্পর্কে এত কিছু জানা সম্ভব ছিল না। পরিচয়ের শুরুর দিকে ব্যাক্তিগত প্রশ্ন করতে আমি পছন্দ করি না।
লিরা যখন তখন ফোন করত। দুই চার দশ মিনিট কথার পর হুট করে ফোন কেটে দিত। মাঝে মাঝে কৌতূহল হত। কথা নেই বার্তা নেই, হুট করে ফোন কেটে দেয়া! এর কারণই বা কি হতে পারে? কৌতূহল হলেও কখনও জানতে চাইনি। সময় হলে সে নিজ থেকেই জানাবে। প্রসঙ্গক্রমে আমি তাকে সেটাই বলেছিলাম। আমার এমন মনোভাব লিরাকে শুরু থেকেই আকৃষ্ট করেছে। আর সে কারণেই আমাকে তার এত পছন্দ! আরেকটু এগোলেই প্রেম ভালবাসা হয়ে যেতে পারে ধরনের পছন্দ। আমার মাঝে পছন্দ জাতীয় কিছু কাজ করেনি। লিরার কথাবার্তায় আঞ্চলিকতা আছে। "ভাবনা"কে সে "বাবনা" বলে। "ঘর"কে বলে "গর"।
কৌতূহল তৈরি করে এক পর্যায় লিরা আমাকে দেখা করতে বলে। আমিও রাজি হয়ে যাই। রাজি হওয়ার যথেষ্ট কারণও ছিল। সুন্দরী রমণী। সেই সাথে পেট নেই জিরো ফিগার। জিরো ফিগারের কোন বাঙালি মেয়েকে কাছ থেকে দেখেছি কিনা মনে পড়ে না। এই সুযোগে দেখা যাবে। যমুনা ফিউচার পার্কে দেখা হবে। ফুড কোর্টের কোন এক রেস্টুরেন্টে খাওয়া হবে। সাথে তার দেয়ার শর্ত মত এক ঘণ্টার গল্প আলাপ। আলাপের মধ্যে থাকবে লিরার সব মনের কথা। আমাকে সেই মনের কথা মন দিয়ে শুনতে হবে। সে কিছু সত্য কথা বলবে। আমি তাকে ভুল বুঝতে পারবো না। ফুভ পার্কে কোনায় পরে থাকা নির্জন ধরনের রেস্টুরেন্ট চাই। লিরার মতে নির্জন রেস্টুরেন্টে কেউ কোন ঝামেলা করে না, "অনেক সেইফ"। কেমন ঝামেলা বা সেইফ সেটা লিরার কাছে জানতে ইচ্ছে করেনি। ইচ্ছে করছিল খাবারের বিলটা কাকে দিতে সেটা জানতে। ইদানীং অর্থ সংকটে আমার দিন কাটছে। দুই মাস হল বেকার বসে অছি।
আমার পরনে কালো টিশার্ট আর গারো ছাই রঙের জিন্স। চুলে বরাবরের মত জেল। জেল দিয়ে চুলগুলো এলোমেলো করে রাখা। পায়ে নতুন কেনা কালো জুতো। রং মিলিয়ে হাতে কালো ঘড়ি। লিরা কালো রঙের সাজ পছন্দ করে! ফিউচার পার্কের নিচতলায় লিরাকে খুঁজতে কোন কষ্ট পেতে হয়নি। কষ্ট পেতে হয়েছে তাকে দেখে। পরনে জমকালো কালো রঙের ড্রেস। বিয়ে ধরনের পার্টিতে মেয়েদেরকে এমন সাজের ড্রেস পরতে দেখা যায়। সাইড ওড়না পরেছে। চোখে না পড়ার মত সাইড ওড়না। পুরো মুখ জুরে কেজি খানেক মেইকাপ। বয়স স্বাস্থ্য দুইটাই কেকা আনটির মত। নুডুলস আচারের কেকা আনটি। কেকা আনটির চেহারার ত্বকে ভাঁজ পরেছে কিনা না জানা নেই। এই মহিলার চেহারায় ভাঁজ পরেছে। মেকআপ দিয়ে সে সেটা ঢাকার চেষ্টা করেছে। চুলগুলো কুচকুচে কালো। নকল চুল নয়। আসল চুল। হিসেব না করে রং করা হলে চুল এমন কুচকুচে কালো দেখায়।
আমি চিন্তায় পরে গেলাম। কি করবো বুঝতে পারছি না। পালিয়ে যাওয়ারও উপায় নেই। ভদ্রতা করে হলেও এই মহিলাকে সময় দিতে হবে। এক ঘণ্টা ধরে এই মহিলার মনের কথা শুনতে হবে। তাও আবার খালাম্মা বয়েসি মহিলার। আমার ছোট খালার বয়েসি হলেও একটা কথা ছিল। ছোট খালা বয়েসে আমার এক বছরের ছোট।
ফিউচার পার্কের নিচ তলায় দাড়িয়ে মিনিট পাঁচেক কথা হল। লিরা খালাম্মা রেস্টুরেন্টে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলল না। কেমন আছেন ভালো অছি ধরনের দুই চারতে কথা শেষে সে বাড়ি চলে যেতে চাইল। আমি বাঁধা দিলাম না। হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। মনে আনন্দ অনুভব হল। মুক্ত পাখির মত আনন্দ। এক ঘণ্টা সময় নিয়ে বিবাহিতা এই মহিলার কথা শোনার মানেই হয় না। তাও আবার মনের কি সব কথা। দেরি না করে সিএনজি ঠিক করে দিলাম। লিরা খালাম্মা চলে গেল।
আমাকে তার পছন্দ হয়নি বুঝতে পেরেছি। পছন্দ হলে সে রেস্টুরেন্টে যেতে চাইত। কি কারণে পছন্দ হয়নি সেটা জানতে পারলে ভালো হত। মোটা স্বাস্থ্যের মহিলারা হয়ত শুকনো স্বাস্থ্যের পুরুষদেরকে পছন্দ করে না। এদেশের মানুষগুলো হালকা পাতলা গড়নের নারী পুরুষদেরকে শুকনা বা রোগা বলতে পছন্দ করে। ছেলেদের ক্ষেত্রে "শুঁটকা" মেয়েদের ক্ষেত্রে "শুটকি"।
ঘরে ঢুকতেই মোবাইলে লিরার এসএমএস। এসএমএস এ লেখা, বাহিরে গেলে চুল আচরায়ে যাবেন। চুলে তেল দিয়ে বাসার বাহিরে যাবেন না। চুলে তেল দিয়ে গুরে বেড়ানো ছেলেদের সাথে আমি ডেটিং করি না। সরি!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন